২০ লাখ টাকার বালু ৫ লাখে নিলাম! চকরিয়ার খুটাখালীতে জব্দ বালুর নিলাম নিয়ে বিতর্ক
Reporter Name
Update Time :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৯
Time View
২০ লাখ টাকার বালু ৫ লাখে নিলাম! চকরিয়ার খুটাখালীতে জব্দ বালুর নিলাম নিয়ে বিতর্ক
ইকরামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়াখালের ছয়টি পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দ বালুর নিলামকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ২০ লাখ টাকার বালু মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম হয়েছে। নিলামে বেশি দর না দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত ৭ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে খুটাখালীতে জব্দ করা বালুর স্তূপের স্থানে উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু পেয়েছেন বলে জানা গেছে খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. শফিউল আলম শফি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর৩১.৪২.২২১৬.০০০.০২.০১৬.২০২৬-৭৩৭ মূলে গত ৫ অক্টোবর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জব্দ করা বালুর ছয়টি স্তূপ উন্মুক্ত নিলামের আওতায় আনা হয়। নিলামের দর নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, উচ্চ দর এড়াতে প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে তা নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। অভিযোগকারীদের দাবি, জব্দ করা বালুর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হতে পারে। তাঁদের প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ বালু কীভাবে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম হলো? তবে বালুর পরিমাণ, গুণগত মান, বাজারদর ও নিলামের শর্ত যাচাই করে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিলামের শর্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামমূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর জমা দিতে হবে। সে হিসাবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার ওপর অতিরিক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা যোগ হয়ে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। ছয়টি পয়েন্টের বালু নিলামে নিলামের আওতায় থাকা বালুর স্তূপগুলো খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ১.ডাইভার্সন এলাকার রাস্তার পূর্ব পাশে দোকানের সামনে ও পেছনে দুটি বালুর স্তূপ। ২. হরিখোলা এলাকার রাস্তার পাশে বালুর পয়েন্ট-১। ৩. আবছারের ভিটার পাশে বালুর পয়েন্ট-২। ৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বালুর পয়েন্ট-৩। ৫. সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে বালুর পয়েন্ট-৪। ৬. মুরগির খামারের পাশে বালুর পয়েন্ট-৫। নিলামের পরও বালু উত্তোলনের আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খুটাখালী খালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের দুই তীরের ভাঙন বেড়েছে। এতে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগকারীদের আরও আশঙ্কা, জব্দ করা বালু অপসারণের সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা কিংবা বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালানোর জন্য নতুন করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, নিলামের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ করতে হবে এবং খাল থেকে নতুন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে নিলামগ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন...
32
ইকরামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ছড়াখালের ছয়টি পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা জব্দ বালুর নিলামকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ২০ লাখ টাকার বালু মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম হয়েছে। নিলামে বেশি দর না দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গত ৭ অক্টোবর বেলা ১টার দিকে খুটাখালীতে জব্দ করা বালুর স্তূপের স্থানে উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
এতে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় প্রায় এক লাখ ঘনফুট বালু পেয়েছেন বলে জানা গেছে খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. শফিউল আলম শফি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু জব্দ করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের স্মারক নম্বর৩১.৪২.২২১৬.০০০.০২.০১৬.২০২৬-৭৩৭ মূলে গত ৫ অক্টোবর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জব্দ করা বালুর ছয়টি স্তূপ উন্মুক্ত নিলামের আওতায় আনা হয়।
নিলামের দর নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান নিলামে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক দর নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, উচ্চ দর এড়াতে প্রায় ৩০ জন ডাককারীকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ সত্য হলে তা নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও
প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। অভিযোগকারীদের দাবি, জব্দ করা বালুর বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হতে পারে। তাঁদের প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ বালু কীভাবে মাত্র ৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলাম হলো? তবে বালুর পরিমাণ, গুণগত মান, বাজারদর ও নিলামের শর্ত যাচাই করে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিলামের শর্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামমূল্যের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ আয়কর জমা দিতে হবে। সে হিসাবে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকার ওপর অতিরিক্ত ১ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা যোগ হয়ে মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। ছয়টি পয়েন্টের বালু নিলামে নিলামের আওতায় থাকা বালুর স্তূপগুলো খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিখোলা এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ১.ডাইভার্সন এলাকার রাস্তার পূর্ব পাশে দোকানের সামনে ও পেছনে দুটি বালুর স্তূপ। ২. হরিখোলা এলাকার রাস্তার পাশে বালুর পয়েন্ট-১। ৩. আবছারের ভিটার পাশে বালুর পয়েন্ট-২। ৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বালুর পয়েন্ট-৩। ৫. সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে বালুর পয়েন্ট-৪। ৬. মুরগির খামারের পাশে বালুর পয়েন্ট-৫। নিলামের পরও বালু উত্তোলনের আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খুটাখালী খালে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে খালের দুই তীরের ভাঙন বেড়েছে। এতে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগকারীদের আরও আশঙ্কা, জব্দ করা বালু অপসারণের সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখা কিংবা বালু উত্তোলনের কার্যক্রম চালানোর জন্য নতুন করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তাঁদের দাবি, নিলামের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ করতে হবে এবং খাল থেকে নতুন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে। শর্ত ভঙ্গ হলে নিলামগ্রহীতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা উপজেলা প্রশাসনের রয়েছে। প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে অভিযোগ খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।