
ফাঁকা চেক দিয়েছেন? পাওনার বেশি টাকা বসালে তা প্রতারণা হতে পারে: আপিল বিভাগ
এডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বিশ্বাস করে অনেকেই পাওনাদারের হাতে সই করা ফাঁকা চেক তুলে দেন। পরে দেখা যায়, সেই চেকে আসল পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকা লিখে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। টাকা না থাকায় চেক ফেরত আসে, আর চেকদাতার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীর জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
24 BLC (AD) 139 মামলায় আপিল বিভাগ বলেছেন, ফাঁকা চেকে প্রকৃত পাওনার চেয়ে বেশি টাকা বসানো প্রতারণার উপাদান। এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ প্রতারণা পুরো লেনদেনের ভিত্তিকেই নষ্ট করে দেয়।
আদালত আরও বলেছেন, চেকে টাকার অঙ্ক ও তারিখ হলো মৌলিক বিষয়। চেকদাতার সম্মতি ছাড়া এগুলো বদলানো বা বসানো হলে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কাউকে ঠকানোর উদ্দেশ্য এবং সেই সুযোগ কাজে লাগানোর উপায়, এই দুটি একসঙ্গে থাকলে সেখানে প্রতারণার উপাদান থাকতে পারে।
সহজ কথায়, ফাঁকা চেক দেওয়া মানে যা খুশি টাকা বসানোর অনুমতি দেওয়া নয়। পাওনা যদি ৫০ হাজার টাকা হয়, আর চেকে ৫ লাখ লেখা হয়, তবে সেই বাড়তি টাকার দাবি আইনের চোখে প্রশ্নবিদ্ধ।
তবে শুধু “চেকটা ফাঁকা ছিল” বললেই প্রতারণা প্রমাণ হয়ে যায় না। আদালতে প্রমাণ করতে হবে:
১. চেকটি ফাঁকা অবস্থায় দেওয়া হয়েছিল;
২. আসল পাওনা কত ছিল;
৩. চেকধারী জেনেশুনে তার চেয়ে বেশি টাকা লিখেছেন;
৪. চেকদাতা এতে সম্মতি দেননি;
৫. বাড়তি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই চেকটি ব্যবহার করা হয়েছে।
ফাঁকা চেক দিলে কী কারণে দিলেন এবং আসল দেনা কত, তার লিখিত প্রমাণ রাখুন: চুক্তিপত্র, রসিদ, লেনদেনের কাগজ, মেসেজ বা সাক্ষী। বিরোধ দেখা দিলে এগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। আর যিনি ফাঁকা চেক নিচ্ছেন, তাঁকে মনে রাখতে হবে, চেকে শুধু প্রকৃত পাওনার অঙ্কই লেখা যাবে।
মনে রাখুন, পাওনার বেশি টাকা বসিয়ে চেক ডিজঅনার করানো শুধু চেকের মামলা নয়, প্রমাণ সাপেক্ষে এটি প্রতারণার বিষয়ও হতে পারে।
লেখকঃ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও আইন গবেষক। মোবাইলঃ ০১৭১৬৮৫৬৭২৮