সাকিব আহসান প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও দুর্গাপূজার আনন্দ, উৎসব আর ভক্তির আবহ শেষে বিদায়ের সুরে মুখর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীর তীর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে টাঙ্গন নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এ সময় নদীর তীরে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে দেখা যায় বিষাদের ছাপ। প্রতিমা বিসর্জন দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। কয়েক দিন ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, আরতি, ঢাকের বাদ্য, ধূপের সুগন্ধ আর ভক্তদের পদচারণায় যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ। দেবী দুর্গাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, তিনি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়ের কাহিনি মানুষের কাছে অন্যায়, অশুভ ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের জয়ের বার্তা বহন করে। তাই দুর্গাপূজার সমাপ্তি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষ নয়; এটি নতুন আশা, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশাও। সাগুনী শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং টাঙ্গন নদীর তীর বিসর্জনের মুহূর্তকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নদীর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা স্থানীয় মানুষের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি পরিচিত দৃশ্য। এ ধরনের উৎসব স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ায় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে যেমন ভক্তদের সমাগম ঘটে, তেমনি বিসর্জনের দিনও থাকে বিদায়ের আবহ। দেবীর কাছে ভক্তরা পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, সুখ-শান্তি এবং সমাজের কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকার প্রত্যাশা করেন তাঁরা। তবে নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমার কাঠামো, রং ও অন্যান্য উপকরণ যেন নদীর পানি ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিসর্জনের পর নদীর তীর পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতিও সুরক্ষিত থাকবে। সব মিলিয়ে পীরগঞ্জের সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মনে থেকে যায় আগামী বছরের অপেক্ষা। প্রার্থনা আর প্রত্যাশায় তাঁরা কামনা করেন অশুভের বিনাশ হোক, শুভ শক্তির জয় হোক, মানুষের জীবনে ফিরে আসুক শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি।
25
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
দুর্গাপূজার আনন্দ, উৎসব আর ভক্তির আবহ শেষে বিদায়ের সুরে মুখর হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীর তীর। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে টাঙ্গন নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এ সময় নদীর তীরে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। আনন্দের পাশাপাশি প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে দেখা যায় বিষাদের ছাপ।
প্রতিমা বিসর্জন দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। কয়েক দিন ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা, আরতি, ঢাকের বাদ্য, ধূপের সুগন্ধ আর ভক্তদের পদচারণায় যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীর তীরে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রকাশ।
দেবী দুর্গাকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, তিনি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গার বিজয়ের কাহিনি মানুষের কাছে অন্যায়, অশুভ ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের জয়ের বার্তা বহন করে। তাই দুর্গাপূজার সমাপ্তি শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার শেষ নয়; এটি নতুন আশা, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশাও।
সাগুনী শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং টাঙ্গন নদীর তীর বিসর্জনের মুহূর্তকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। নদীর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা স্থানীয় মানুষের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি পরিচিত দৃশ্য। এ ধরনের উৎসব স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ায় এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে যেমন ভক্তদের সমাগম ঘটে, তেমনি বিসর্জনের দিনও থাকে বিদায়ের আবহ। দেবীর কাছে ভক্তরা পরিবার-পরিজনের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য, সুখ-শান্তি এবং সমাজের কল্যাণ কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় থাকার প্রত্যাশা করেন তাঁরা।
তবে নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিমার কাঠামো, রং ও অন্যান্য উপকরণ যেন নদীর পানি ও জলজ পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিসর্জনের পর নদীর তীর পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া গেলে ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতিও সুরক্ষিত থাকবে।
সব মিলিয়ে পীরগঞ্জের সাগুনী শালবনসংলগ্ন টাঙ্গন নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভক্তদের মনে থেকে যায় আগামী বছরের অপেক্ষা। প্রার্থনা আর প্রত্যাশায় তাঁরা কামনা করেন অশুভের বিনাশ হোক, শুভ শক্তির জয় হোক, মানুষের জীবনে ফিরে আসুক শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি।