1. mdrouf834@gmail.com : দৈনিকবাংলাদেশপত্রিকা :
  2. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
Title :
রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে সাত ৭ লাখ টাকা ছিনতাই, আটক- ৫ চট্টগ্রাম মহানগরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন করেন সিএমপি কমিশনার শ্রীপুরে মধ্যে রাতে মসজিদ সহ বেশ কয়েকটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই চট্টগ্রাম (সিএমপি) সিনেমা প্যালেস এলাকায় অবৈধ রিগ্যাল হোটেল ও বরিশাল হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা অতি জরুরী নবীনগরে তিতাস-বুড়ী নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন, হাজারো ভক্তের ঢল শ্রীপুরে ওয়াজ মাহফিলে সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে বিশেষ পাগড়ী পরিয়ে দিলেন আলেম ওলামারা পটিয়ায় লুট হওয়া চিনি লামা হতে উদ্ধার। কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত মদনে ১৫ পিস ইয়াবাসহ নারী ও পুরুষ গ্রেফতার । নবীনগরে এমপি মান্নানের নির্দেশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নদীভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলা শুরু, দড়ি লাপাংয়ে ফিরছে স্বস্তি।

নওগাঁর ধামইরহাটে ছোট ভাই ও ভাবীর লোভের চক্রান্তে উদঘাটন,গ্রেফতার পাঁচ।

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ Time View
25

মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানা এলাকায় এক বৃদ্ধার ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য মামলা রুজুর একদিনের মধ্যে উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৫জন গ্রেফতার ও হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রশি,ওড়না উদ্ধার।

গত ১৯ অক্টোবর সকাল আর ৮.৩০-৯.০০ মধ্যে পুলিশ সংবাদ পায় যে ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামে থানা ধামইরহাট, জনৈক হালিমা বেগম (৬৫) নামক এক বৃদ্ধার মৃতদেহ তার বসতবাড়ি হতে প্রায় ৩০০ গজ দুরে বাঁশ ঝাড়ের নিচে জঙ্গলের পাশে ধানী জমির আইলে পড়ে আছে। ভরে সংবাদটি আমি স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং থানা থেকে পাওয়ার সাথে সাথে অফিসার ইনচার্জ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পত্নীতলা সার্কেলকে ঘটনাস্থলে দ্রুত যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করি। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে হয় বৃদ্ধা মহিলা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার। যার একটি কানের লতি কাটা ছিল অপর কানের লতি ছিড়া ছিল।

ঘটনা সংক্রান্তে ১৯/১০/২৬ তারিখ ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা রুজুর পরপর পুলিশ সুপার নওগাঁ জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর সরাসরি ত্বত্যাবধানে পত্মীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ মিন্টু রহমান এর নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।স্থানীয় তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে অভিযান শুরু হয়। চৌকস আভিযানিক টিম ধামইরহাট থানার আলমপুর ইউনিয়নে অভিযান পরিচালনা করিয়া ডিসিস্ট হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান(৫৬) পিতা- আলিমদ্দিন এবং মজনুর স্ত্রী মোসাঃ হোসনে আরা (৪২), উভয় সাং- ছিলিমপুর (তালবোনা) থানা ধামইরহাট, নওগাঁদ্বয়কে প্রথমে গ্রেফতার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে তারা হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তাদের জিজ্ঞাসা বাদে পরবর্তীতে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহনকারী আলমপুর ইউনিয়নের বস্তাবর গ্রাম হতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম(৩৯) পিতা- মোঃ শহিদুল ইসলাম,সাং- বস্তাবর,থানা-ধামইরহাটকে তার নিজ বাড়ী হতে এবং হত্যাকান্ডে অংশগ্রহন করা তদন্তে প্রাপ্ত আরও ২ জন আসামী মোঃ হামিদুর রহমান(৫৫), ২। মোঃ মোশারফ হোসেন(৪৫) উভয়ব পিতা-মৃত ইসমাইল হোসেন, সাং-ছিলিমপুর, থানা-ধামইরহাটদ্বয় কে গ্রফতার করা হয় । এই হত্যা কান্ডে জরিত মোট ৫ খুনিকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশ সক্ষম হয় । আসামীদের তথ্য মতে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয় ।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান ঘটনার প্রায় ৫ দিন পূর্বে তারা এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করেন। হত্যার কারন অনুসন্ধানে জানা যায়। মৃতা হালিমা নিঃ সন্তান ও স্বামী পরিত্যাক্তা। সে প্রায় ২০ বছর হতে তার পিতার বসত-বাড়িতে তার ছোট ভাই মজনু এর বাড়ির পিছনে টিনের ছাপড়া দিয়ে একটি কুড়ে ঘরের মতো করে বসবাস করে আসছিল। তিনি ১ টি গরু, ৩টি ছাগল, কয়েকটি হাস- মুরগি পালন ও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করত। তার জমানো টাকা তার বড় ভাইয়ের ছেলে রুবেল এর নিকট দিয়ে রাখেতো। তাকে সে বিশ্বাস করত। সে তার ছোট ভাই মজনু ও ভাই বউকে কোন টাকা দিত না এই নিয়ে মাঝে মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়ে আসছিল। এছাড়াও তার ছোট ভাই মজনুর বাড়িতে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহনকারী খুনিদের আসা যাওয়া ছিল যা সে পছন্দ করত না।

এছাড়াও ধৃত আসামী রবিউল ইসলাম এলাকায় মাদক বিক্রির জন্য যেতো ডিসিস্ট হালিমা বাধা দিত, এর সহিত মাদক বিক্রির বিষয় নিয়ে মাঝে মধ্যে তর্কাতর্কি হতো। এছাড়াও অপর ২ আসামী হামিদুর এবং মোশারফের সহিত অনেক পূর্ব হতে তার বিরোধ ছিল। আসামি হামিদুর এবং মোশারফ দুইজন আবার দুই ভাই। বড় বোনের গরু, ছাগল, হাঁস মুরগির প্রতি লোভ, তার কানের দুলের প্রতি লোভ, জমি জমার বিরোধ ও মাদক সংশ্লিষ্টতায় বাধা দেওয়ায় ছোট ভাই মজনু এবং তার স্ত্রী হোসনেয়ারার পরিকল্পনায় বর্ণিত পাঁচজন একত্রে হয়ে বৃদ্ধা হালিমা বেগমকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযাযী ১৮/১০/২৬ তারিখ দিবাগত রাত্রী অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার দিকে ধৃত আসামী হামিদুর রহমান ডিসিস্ট বৃদ্ধা হালিমাকে তার ঘর থেকে ডেকে বের করেন। তৎক্ষনাত আসামীরা তার মুখ চেঁপে ধরে টেনে হিঁচড়ে তার বাড়ী হতে ২০০ গজ দুরে খড়ের পালার পিছনে নিয়ে গিয়ে তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে গলা চেপে ধরে তার পরিহিত ওড়না দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পরবর্তীতে তার কানের দুল নেয়ার জন্য হামিদুর বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ফেলে, এবং অপর কানের লতি ছিড়ে ফেলে । পরবর্তীতে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে হামিদুর, রশিদুল ও রবিউল তিন জন মিলে মৃতদেহটি নিয়ে পুকুরের পাড়ের নিচ দিয়ে নিয়ে বাঁশ ঝাড়ের ওপারে ফেলে রাখে । সেখানে মৃতার হাতের বাঁধন খুলে রশিটি ফেলে দেয়। পরবর্তীতে যেই ওড়না দিয়ে হত্যা করা হয় ওড়নাটি মৃতার ভাই আসামী মজনু মৃতার চোখ মুখের উপর ঢেকে দিয়ে সকল আসামীরা যে যার মতো বাড়িতে চলে যায়। কানের দুলের একটি ছোট ভাই মজনু নেয়, অপরটি হামিদুর নেয়।

ফাইনালি নওগাঁ জেলা পুলিশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায় নওগাঁ জেলায় যে কোন অপরাধ দমন এবং প্রতিরোধে সেইসাথে দ্রুততম সময়ে আসামী গ্রেফতার করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ সর্বাত্মক তৎপর রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category

Categories

© All rights reserved © 2026