কুড়িগ্রামের উলিপুরে মভ সৃষ্টি করে ওসি সহ পুলিশের সোর্সকে অবরুদ্ধের ঘটনায় তোলপাড়
মোঃবদরুজ্জামান বিপ্লব বিশেষ প্রতিনিধিঃ
Update Time :
রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
১১৪
Time View
কুড়িগ্রামের উলিপুরে মভ সৃষ্টি করে ওসি সহ পুলিশের সোর্সকে অবরুদ্ধের ঘটনায় তোলপাড়
মোঃবদরুজ্জামান বিপ্লব বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় থানার ওসিসহ পুলিশী সোর্সকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ ১৫ মার্চ রোববার উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশে ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়। অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মাষ্টারের পুত্র মাহাবুবার রহমান মজনু (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। অপর দিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান মজনু ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে থানার পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করে। বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, ‘মাহাবুবার রহমান মজনু ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এ ছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিতো। গত ১০ তারিখে বাড়িতে হামলা ও চুরির ঘটনায় মাহাবুবার রহমান মজনুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।’ মব সৃষ্টি করে ওসিসহ পুলিশী সোর্সকে অবরুদ্ধ করার ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মজনু তার বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে। মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।’ এ বিষয়ে ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনঃরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
109
মোঃবদরুজ্জামান বিপ্লব
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় থানার ওসিসহ পুলিশী সোর্সকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ ১৫ মার্চ রোববার উপজেলার গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব সৃষ্টি করা হয়। এ সময় একদল নারী-পুরুষ পুলিশে ওপর চড়াও হয়ে হট্টগোল শুরু করে। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যায়।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ মাষ্টারের পুত্র মাহাবুবার রহমান মজনু (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০) দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
অপর দিকে ১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান মজনু ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে এবং বসতঘরে থাকা আসবাবপত্র ভেঙে টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে উলিপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে থানার পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা গ্রহণ করে।
বাদী হাজেরা খাতুন বলেন, ‘মাহাবুবার রহমান মজনু ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো। আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা করতে পারেন না। এ ছাড়া স্বামী চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ থাকে না। এ সুযোগে তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিতো। গত ১০ তারিখে বাড়িতে হামলা ও চুরির ঘটনায় মাহাবুবার রহমান মজনুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।’
মব সৃষ্টি করে ওসিসহ পুলিশী সোর্সকে অবরুদ্ধ করার ব্যাপারে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মজনু তার বাড়িতে পুলিশ আসার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে। মামলা মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেছে।’
এ বিষয়ে ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ অভিযানে গেলে আসামিরা নারী ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায় মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। পরে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনঃরায় মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।