
কামরুল ০১৮৮৩০৮৮০৮৪
মামলার বাদী মারুফুর রহমান অপু (২২) গত ১৬/১০/২০২৬ ইং তারিখ রাত অনুমান ১০:০০ ঘটিকার সময় বাদীর বন্ধু যথাক্রমে এমরান (২৪), নিশাত (২৬) ও আসিফ (২৩) ০৩টি মোটরসাইকেলযোগে কক্সবাজারে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ বাড়ি হতে রওনা করেন। গত ১৭/১০/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০১:৩০ ঘটিকার সময় বাদী তার নিজ নামীয় On Test Yamaha R15 R2M মোটরসাইকেল, যার মূল্য অনুমান ৫,৫০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা, চালিয়ে খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডস্থ ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে রাস্তার ওপর পৌঁছামাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মেরুন রঙের প্রাইভেট কার ও ০২টি মোটরসাইকেল বাদীর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে থাকা ১-৫নং বিবাদীসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদী গাড়ি থেকে নেমে বাদীর মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিবাদীগণ অহেতুক বাদীকে গালিগালাজ করে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা হত্যার ভয় দেখিয়ে বাদীকে বিবাদীদের প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। ০১ জন বিবাদী বাদীর মোটরসাইকেলটি চালিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায় এবং অপর ২/৩ জন বিবাদী বাদীকে তাদের প্রাইভেট কারে করে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকে। ওই দিন রাত অনুমান ০৩:০০ ঘটিকার সময় বিবাদীগণ বাদীকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ এলাকায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বাদীর ব্যবহৃত ০১টি Vivo মোবাইল ফোন, যার মূল্য ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা, নিয়ে নেয় এবং বাদীকে প্রাইভেট কার থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। এ সময় বিবাদীগণ বাদীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে অনিক নামীয় এক ব্যক্তি তার ফেসবুক আইডি থেকে ০১টি মোটরসাইকেল বিক্রয় করা হবে মর্মে একটি স্টোরি শেয়ার করেন। বাদী অনিক দাশ নামীয় ব্যক্তির সঙ্গে মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্য মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। মোটরসাইকেলটির মূল্য ৫,৩০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা নির্ধারণ করা হলে বাদী তা ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাদীকে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তরের জন্য বায়েজিদ লিংক রোডের মুখে পুলিশ বক্সের সামনে যেতে বলা হয়।
এ প্রেক্ষিতে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, এসআই মোঃ জালাল আহমেদ, এএসআই মোঃ জাকির হোসেন, এএসআই মোঃ এরশাদ আলমসহ সঙ্গীয় অন্যান্য ফোর্স গত ২০/১০/২০২৬ তারিখে বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সদস্য ১নং আসামী অনিক দাশ (২৭), পিতা- গৌতম দাশ, মাতা- রুপনা দাশ, সাং- দক্ষিণ কাঞ্চনা, হিমাংশু ডাক্তারের বাড়ি, পোস্ট- জোটপুকুরিয়া, থানা- সাতকানিয়া, জেলা- চট্টগ্রামকে (পুলিশ কনস্টেবল, বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত) গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত অনিক দাশকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, মোটরসাইকেলটি ২নং আসামি ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯)-এর কাছে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানাধীন বিটাক বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২নং আসামি ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯), পিতা- মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাতা- ইয়াসমিন আক্তার, সাং- পাঠানপাড়া, ওয়াজেদিয়া অক্সিজেন, তামান্না বিল্ডিং, থানা- বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা- চট্টগ্রাম এবং ৩নং আসামি মহিউদ্দিন সেলিম (৫২), পিতা- আবু আহম্মেদ, মাতা- শামসুন্নাহার, সাং- ধর্মপুর, হাফিজুর রহমান মিস্ত্রির বাড়ি, থানা- ফটিকছড়ি, জেলা- চট্টগ্রাম, বর্তমান ঠিকানা- পাঁচলাইশ মেডিকেলের সামনে, বিটিআই নিউ হ্যাভেন, ৪র্থ তলা, সিঁড়ির ডান পাশে, থানা- পাঁচলাইশ, জেলা- চট্টগ্রাম দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ২নং আসামি ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯) ও ৩নং আসামি মহিউদ্দিন সেলিম (৫২)-কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, মোটরসাইকেলটি ৪নং আসামি মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ড (৩৮)-এর হেফাজতে রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানাধীন ফইল্লাতলি বাজার, সিদ্দিক কমিশনারের বাড়ির রোডস্থ কুদ্দুছের গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে ৪নং আসামি মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ড (৩৮), পিতা- নাছির উদ্দিন, মাতা- কহিনুর আক্তার, সাং- ফইল্লাতলি বাজার, সিদ্দিক কমিশনারের বাড়ি, থানা- হালিশহর, জেলা- চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে বাদীর লুণ্ঠিত Yamaha R15 R2M মডেলের মোটরসাইকেল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও ০২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা নং- ২৯, তারিখ- ২০ অক্টোবর ২০২৬; ধারা- ৩৬৫/৩৯৫/৩৯৭/৪১২ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে।