
মোঃ নাসিরউদ্দিন সটাফ রিপোর্টার
প্রচণ্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহীর মোহনপুরে সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে বদলে গেছে কৃষির চিত্র। একসময়ে যে জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন হতো, সেই জমিতে এখন তিন থেকে চারটি পর্যন্ত ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ, আলু ও গমসহ নানা ফসলের সবুজ সমারোহ। আর এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপভিত্তিক সেচ প্রকল্প।
একসময় মোহনপুরের কৃষকদের চাষাবাদের জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। চৈত্র-বৈশাখে প্রচণ্ড খরায়ায় মাঠের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যেত। বৃষ্টিনির্ভর কৃষির কারণে বছরে একটি ফসলের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হতো না। এর মধ্যে বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, খরা ও ঝড়-ঝাপটাসাহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের জন্য ছিল নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় দুর্যোগে মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে গভীর নলকূপের সেচ সুবিধা পাওয়ায় সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলায় বিএমডিএ’র বৈদ্যুতিক ৫২৯টি গভীর নলকূপ রয়েছে। এসব নলকূপের সেচ সুবিধায় প্রায় ১৩ হাজার ৫১০ হেক্টর আমন, ১৮ হাজার ৪৫৫ হেক্টর রবি এবং ১১ হাজার ৩২০ হেক্টরের বোরো জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। বিএমডিএ’র আওতায় সেচ সুবিধার উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা ২৬ হাজার ২৮৫ জন। সেচের পাশাপাশি খাবার পানির সংকট নিরসনেও কাজ করছে বিএমডিএ। ৯৫টি পানির ট্যাংক ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সারা বছর খাবার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫৬ হাজার ১৬৩ জন। উপজেলার ৫২৯টি গভীর নলকূপের সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। আইইসিডি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ও সম্প্রসারিত পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ হাজার ১১০ মিটার। এ ছাড়া প্রায় ২৬টি মরা পুকুর পুনঃখনন করে এসব পুকুরের পানি দিয়ে সম্পূরক সেচের মাধ্যমে প্রায় ৬৬৫ হেক্টরে জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এতে উপকারভোগী কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৭ জন। প্রায় ৬৮ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং এসব খালের ২৬টি ক্রসড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো থেকেও কৃষকরা সম্পূরক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।
কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নেও বিএমডিএ’র বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৫১ দশমিক ৪৭৩ কিলোমিটার গ্রামীণ পাকা সড়ক নির্মাণ ও ৪৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটারের সড়ক মেরামত করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ৩৩টি কালভার্ট ও ৬৫ মিটার সেতু। এ ছাড়া আইল, খাস পুকুরপাড়, খাল-খাড়ি ও রাস্তার পাশে বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৩ লাখ ৫৪৮টি চারা রোপণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএমডিএ মোহনপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী বলেন, গভীর নলকূপের পাশাপাশি পাতকুয়া, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূ-উপরিভাগের পানি সেচে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মরা খাল, খাড়ি ও পুকুর পুনঃখনন, বনায়ন এবং গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিএমডিএ কাজ করে যাচ্ছে।