চীনে পাঁচ ম্যাচে জয় না পেলেও শৃঙ্খলা ও নান্দনিক ফুটবল দিয়ে প্রশংসা কুড়াল পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক স্কুল ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জয়ের দেখা না পেলেও শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক ফুটবল খেলে ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। চীনে অনুষ্ঠিত ISF ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল-২০২৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মাননা অর্জন করেছে পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ফুটবল দল। ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্পোর্টস ফেডারেশনের (ISF) আয়োজনে প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। এবারের আসরটি গত ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর চীনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ফুটবল দল। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলে। চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, মরক্কো, হাইতি ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে দলটি। কোনো ম্যাচেই জয় না পেলেও প্রতিটি খেলায় শৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্ন খেলা ও নান্দনিক ফুটবল প্রদর্শনের জন্য আয়োজকদের নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করে বাংলাদেশ। মাঠে জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণ, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গৌরবের। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন দেশের দলের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা নিজেদের প্রতিভা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ দলের হেড অব ডেলিগেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের প্রিন্সিপাল কর্নেল সিনথিয়া শারমিন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ISF ফুটবল বিশ্বকাপে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে একটি দল অংশগ্রহণ করেছে। তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর একটি এলাকা থেকে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচটি ম্যাচের কোনোটিতে জয় না পেলেও শৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুন্দর ও নান্দনিক ফুটবল খেলার মাধ্যমে আমরা ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।” তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে দলের সামনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। যথাযথ অনুশীলনের অভাব, প্রয়োজনীয় খেলার উপকরণের ঘাটতি, স্পন্সরের অভাব এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচজন খেলোয়াড়ের ভিসা না হওয়ায় দলটি প্রত্যাশিত প্রস্তুতি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা করেছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও ভালো করার পথ তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্কুল ফুটবল দল আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে। পাঁচ ম্যাচে জয় না এলেও ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, ফুটবলে সাফল্য শুধু জয়-পরাজয়ে সীমাবদ্ধ নয়; শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
9
চীনে পাঁচ ম্যাচে জয় না পেলেও শৃঙ্খলা ও নান্দনিক ফুটবল দিয়ে প্রশংসা কুড়াল পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা
আন্তর্জাতিক স্কুল ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে জয়ের দেখা না পেলেও শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক ফুটবল খেলে ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করেছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। চীনে অনুষ্ঠিত ISF ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবল-২০২৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এই সম্মাননা অর্জন করেছে পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ফুটবল দল।
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্পোর্টস ফেডারেশনের (ISF) আয়োজনে প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে। এবারের আসরটি গত ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর চীনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ফুটবল দল।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলে। চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি, মরক্কো, হাইতি ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে দলটি। কোনো ম্যাচেই জয় না পেলেও প্রতিটি খেলায় শৃঙ্খলা, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, পরিচ্ছন্ন খেলা ও নান্দনিক ফুটবল প্রদর্শনের জন্য আয়োজকদের নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করে বাংলাদেশ।
মাঠে জয়-পরাজয়ের হিসাবের বাইরে খেলোয়াড়দের আচরণ, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও শৃঙ্খলার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গৌরবের। বিশ্বমঞ্চে বিভিন্ন দেশের দলের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলাররা নিজেদের প্রতিভা ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে।
বাংলাদেশ দলের হেড অব ডেলিগেশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের প্রিন্সিপাল কর্নেল সিনথিয়া শারমিন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ISF ফুটবল বিশ্বকাপে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে একটি দল অংশগ্রহণ করেছে। তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর একটি এলাকা থেকে বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচটি ম্যাচের কোনোটিতে জয় না পেলেও শৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুন্দর ও নান্দনিক ফুটবল খেলার মাধ্যমে আমরা ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জন করতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।”
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে দলের সামনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। যথাযথ অনুশীলনের অভাব, প্রয়োজনীয় খেলার উপকরণের ঘাটতি, স্পন্সরের অভাব এবং শেষ পর্যন্ত পাঁচজন খেলোয়াড়ের ভিসা না হওয়ায় দলটি প্রত্যাশিত প্রস্তুতি ও পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি।
তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা করেছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও ভালো করার পথ তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নিয়মিত অনুশীলন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্কুল ফুটবল দল আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে।
পাঁচ ম্যাচে জয় না এলেও ফেয়ার প্লে ট্রফি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে, ফুটবলে সাফল্য শুধু জয়-পরাজয়ে সীমাবদ্ধ নয়; শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।