
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সদর উপজেলার পাটধা ও রঘুনন্দনপুর মৌজায় ১০৩.৭৩ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অনুমোদনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে এবং ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার পথ প্রশস্ত হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মোট ১৪টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন লাভ করে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার পাটধা ও রঘুনন্দনপুর মৌজায় মোট ১০৩.৭৩ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, গবেষণা কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শুরু করা সম্ভব হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, কিশোরগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে জেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ পাবেন। রাজধানী কিংবা দূরবর্তী শহরে গিয়ে পড়াশোনার চাপ কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে কিশোরগঞ্জে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ ঘটবে। আবাসন, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সেবাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, কিশোরগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জেলার দীর্ঘদিনের দাবি। কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির সর্বশেষ এই অনুমোদন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প অনুমোদন এবং নির্মাণকাজ শুরু হলে অচিরেই কিশোরগঞ্জে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।