
মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, রাউন্ড চট্টগ্রাম।
সিদ্দিকে আকবর (রা.) তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার উদ্যোগে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী, হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে মাদ্রাসার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্নকারী ৯ জন শিক্ষার্থীকে পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া নূরানী বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হওয়া ৭২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুর রহিম আদনান তাঁর বক্তব্যে সন্তানদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলা জরুরি। ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ শেখায়।
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব হলে তারা একসময় মা-বাবার প্রতি অবাধ্য হয়ে উঠতে পারে এবং তাঁদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যেতে পারে। এর ফলে জীবনের শেষ সময়ে মা-বাবাকে অবহেলা ও নিঃসঙ্গতার শিকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটাতে হতে পারে। তাই সন্তানদের শুধু পার্থিব শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না, তাদের আদর্শ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
জীবনের মূল্য ও সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় নিজের যৌবন, শক্তি ও কর্মক্ষমতা দেখে মনে করে, সামনে অনেক সময় পড়ে আছে এবং জীবনে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। অথচ মানুষের হায়াত কতটুকু, তা কেউ জানে না। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে ভালো কাজ করা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মুহিবববুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবদুর রহিম, হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শোয়াইব, হাফেজ মাওলানা ইব্রাহিম, হাফেজ মাওলানা রায়হান, মাওলানা মোহাম্মদ ফুরকান ও মাস্টার শিহাব উদ্দিন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজিতে বক্তব্য উপস্থাপন করে। পাশাপাশি হামদ-নাত ও ইসলামি সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরে তারা। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা জানাজার নামাজ আদায়ের নিয়ম, মৃত ব্যক্তির দাফনপ্রক্রিয়া এবং ইমামের দায়িত্ব ও গুরুত্ব অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যবহারিকভাবে প্রদর্শন করে। তাদের এসব পরিবেশনায় দ্বীনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব জীবনে ইসলামী বিধিবিধান জানার গুরুত্ব ফুটে ওঠে।
অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ি ও সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদের দ্বীনি শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবক সমাবেশে সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।