কুলিয়ারচরে মাদকসহ আটক ৪ জনের ঘটনায় ভিন্ন ব্যবস্থা, ইউএনওর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
Update Time :
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
৭
Time View
কুলিয়ারচরে মাদকসহ আটক ৪ জনের ঘটনায় ভিন্ন ব্যবস্থা, ইউএনওর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন
মাহিন আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বিরুদ্ধে। একই অভিযানে আটক আরেক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ায় মোবাইল কোর্টের সিদ্ধান্ত ও এর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট আটজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয় এবং বাকিদের আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে সিয়াম (১৮) এবং লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাফি মিয়ার ছেলে সানিকে (২৭) বোতলে থাকা প্রায় ৫০০ গ্রাম মদসহ আটক করা হয়। তাঁদের মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানায় পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টে তাঁরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। এরপর উদ্ধার করা মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে (৩৫) নিজ বাড়ি থেকে মাদকসহ আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের ঘর থেকে ১১ পিস ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল মিয়াকে মোবাইল কোর্ট ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই অভিযানে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় সিদ্ধান্তগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, মাদক সেবনের অভিযোগ স্বীকার করার পর সিয়াম ও সানিকে কোন আইনগত বিধানের আওতায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এবং ইসমাইলের স্ত্রী বকুলা বেগমকে ছেড়ে দেওয়ার ভিত্তি কী ছিল—তা জানতে চাইছেন স্থানীয়রা। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করলে তাঁর স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপের লিখিত আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৭(৩) ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিলে এবং তা সন্তোষজনক হলে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাঁদের বক্তব্য কীভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে একই অভিযানে কারও ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, কাউকে আদালতে পাঠানো এবং অন্যদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে, কুলিয়ারচরে মাদক দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই ধরনের অভিযানে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
9
মাহিন আহমেদ
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বিরুদ্ধে। একই অভিযানে আটক আরেক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ায় মোবাইল কোর্টের সিদ্ধান্ত ও এর আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাদক সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট আটজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে মোবাইল কোর্টে হাজির করা হয় এবং বাকিদের আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে সিয়াম (১৮) এবং লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাফি মিয়ার ছেলে সানিকে (২৭) বোতলে থাকা প্রায় ৫০০ গ্রাম মদসহ আটক করা হয়। তাঁদের মাদকাসক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানায় পুলিশ। পরে মোবাইল কোর্টে তাঁরা মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। এরপর উদ্ধার করা মদ জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়া (৫০) ও তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে (৩৫) নিজ বাড়ি থেকে মাদকসহ আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের ঘর থেকে ১১ পিস ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইল মিয়াকে মোবাইল কোর্ট ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁর স্ত্রী বকুলা বেগমকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই অভিযানে মাদকসহ আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় সিদ্ধান্তগুলোর যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, মাদক সেবনের অভিযোগ স্বীকার করার পর সিয়াম ও সানিকে কোন আইনগত বিধানের আওতায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এবং ইসমাইলের স্ত্রী বকুলা বেগমকে ছেড়ে দেওয়ার ভিত্তি কী ছিল—তা জানতে চাইছেন স্থানীয়রা।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭(২) ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করলে তাঁর স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে যথোপযুক্ত দণ্ড আরোপের লিখিত আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, ৭(৩) ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে ব্যাখ্যা দিলে এবং তা সন্তোষজনক হলে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কী অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাঁদের বক্তব্য কীভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, অভিযানে আটক অপর চারজনকে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে একই অভিযানে কারও ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, কাউকে আদালতে পাঠানো এবং অন্যদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, কুলিয়ারচরে মাদক দীর্ঘদিনের একটি সামাজিক সমস্যা। এ পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। একই ধরনের অভিযানে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।